ছৈয়দ আলম , টেকনাফ #
বিভ্রান্তি এড়াতে পুলিশী অভিযান বন্ধ থাকায় টেকনাফের চাকমাপল্লীতে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসছে। গত মঙ্গলবার রাতে উক্ত পল্লীতে আসামী ধরতে গিয়ে মর্মান্তিক হামলার শিকার নায়েক মোঃ শিপন মিয়া চমেক হাসপাতালের বেডে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। ওই রাতে ঘটনার ব্যাপারে পুলিশ ‘ওই অভিযানে কোন আদিবাসীকে নির্যাতন করা হয়নি’ মমের্ স্থানীয়ভাবে তাদের অবস্থান তুলে ধরে উল্টো ‘আধিবাসী কর্তৃক পুলিশ নির্যাতনের শিকার’ বলে দাবী তুলেছে। এদিকে স্থানীয় এক গ্রাম্য চিকিৎসক ‘পিটুনিতে গর্ভপাত নয়; তাঁর হাতেই ওই গৃহবধু‘র নরম্যাল ডেলিভারি হয়েছে বলে’ মর্মে দাবী করছেন্। তবে এ ব্যাপারে ওই গৃহবধু‘র সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। গতকাল ২ জুন দুপুর সাড়ে ১১টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সময়ে গত ২৯ মে চাকমাপল্লীর ঘটনার ব্যাপারে জানতে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদকর্মী ঘটনাস্থলে যায়। চাকমাপল্লী ঘুরে দেখা গেছে, শুক্রবার রাত থেকে পুলিশী অভিযান বন্ধ থাকায় সেখানে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসছে। আদিবাসীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আহত দু’তরুণী লাকি চাকমা (১৮) ও সামিয়া ছিং চাকমা সুমি (১৫) এবং গৃহবধু মালাই মে চাকমাকে (৩০) চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এদিকে হোয়াইক্যং ষ্টেশনস্থ ‘কালা ডাক্তার’ নামে পরিচিত গ্রাম্য চিকিৎসক পরিতোষ কান্তি নাথ ‘গৃহবধু মালাই মে চাকমা পিটুনিতে গর্ভপাতের শিকার হয়েছে মর্মে যে কথা প্রচারিত হয়েছে তা সঠিক নয় বলে দা¦ী করে ওই দিন ভোররাতে তাঁর হাতেই নরম্যাল ডেলিভারী হয়েছে বলে জানান।বিকালে এ বিষয়ে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ীতে গিয়ে ইনচার্জ এসআই বখতিয়ার ও টু-আইস এসআই মাহফুজের সাথে আলাপকালে তাঁরা জানান, শুকনা আমতলীস্থ চাকমাপল্লী এলাকার বন বিভাগের ১৫ একর জমি দখল-বেদখল নিয়ে ১২ মে ইসহাক-চিং প্রু চাকমা গং আবদুল হক গংকে মারধর করে গুরুতর জখম করে। উক্ত ঘটনায় আবদুল হক গং বাদী হয়ে থানায় মামলা করে। গত মঙ্গলবার ওই মামলার তদন্তকারী অফিসার ফোর্সসহ এজাহারভূক্ত আসামী বুদং চাকমা ও বান্তু চাকমাকে আটক করে ফাঁড়ীতে ফেরার সময় ৫০/৬০ লোক ধারালো অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে অতর্কিতে এসে ধৃত দু’আসামীকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। বাধা দিলে উক্ত লোকজন নায়েক (২৪৫) মোঃ শিপন মিয়াকে ধারালো অস্ত্র ধারা মাথায় কুপিয়ে ও পায়ের রগ কেটে মারাত্মক জখম করে আসামী ছিনিয়ে নেয়। সরকারী কাজে বাধা ও পুলিশকে আক্রমণ করায় ওই রাতেই দু’জন এএসপি’র নেতুত্বে অভিযান চালানো হয়। পুলিশ কর্মকর্তারা জোর দিয়ে দাবী করছেন, ওই রাতে পুলিশ কারো উপর তান্ডব চালায়নি। উক্ত পল্লীর ১৫ একর জমি দখল-বেদখল নিয়ে বিবাদমান দু’গ্রুপ পরস্পর পরস্পরকে ঘায়েল করতে তারা নিজেরাই তান্ড চালিয়ে উল্টো পুলিশের উপর দায় চাপাতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বর্তমানে বিভ্রান্তি এড়াতে পুলিশ ওই পল্লীতে অভিযান বন্ধ রেখেছে।
পুলিশ সুত্রে জানা যায়, ওই রাতের মর্মান্তিক ঘটনায় গুরুতর আহত নায়েক মোঃ শিপন মিয়া বর্তমানে চমেক হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। এমনিতে তাঁর মাথায় ও ভুরুতে গভীর দায়ের কূপে জখম যেমন গুরুতর তেমনি বাঁ পায়ের গোড়ালীতে রগ কেটে যাওয়ায় তিনি চিরতরে পঙ্গ হতে পারেন বলে আশংকা ব্যক্ত করেছেন চিকিৎসকরা।
জানা যায়, কুড়গ্রামের ছেলে মোঃ শিপন ৩ ভাই, ৭ বোন,মা, স্ত্রী ও ২ বছর বয়সী সন্তানের একমাত্র ভারণ-পোষকারী হওয়ায় তাঁর পরিবার একান্তভাবে তাঁর উপর নির্ভরশীল। যদি তিনি চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করলে পরিবারের এই সব সদস্য পথে বসবে।


