প্রকাশক ও চেয়ারম্যান- মোঃ রেজাউল করিম, মোবা- ০১৫৫৮-৪৩৪২২৮,০১৮৩৫-৪১০১২৫, বার্তা সম্পাদক- সেলিম উদ্দিন, মোবা- ০১৮১৮-১২৫৪০০, পৃষ্ঠপোষক-সোহেল জাহান চৌধুরী emil: endcox@gmail.com

নূরুল কবীর, বান্দরবান #
সেই দুর্গম বড় মদক থেকে বান্দরবান জেলা শহর এবং আলীকমের পোয়ামহুরী থেকে লামা উপজেলা সদর পর্যন্ত সাংগু নদীর দুইতীরে তিন শতাধিক কিলোমিটার এলাকায় ব্যাপক আকারে এবারও তামাক উৎপাদিত হয়েছে। সড়কপথের দুইপাশে লামা উপজেলার ইয়াংসা থেকে ফাঁািসয়াখালী,আলীকদম উপজেলা সদর থেকে লামা উপজেলা সদ

রজুড়েই শুধু তামাক চাষ আর তামাক চাষের ফলে পরিবেশ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছ। অবাধে তামাক চাষের ফলে জেলার রুমা, থানছি,রোয়াংছড়ি,বান্দরবান সদর, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি ও লামা উপজেলায় সাক-সবজীর আবাদ প্রতিবছরের মত এবারও কমেছে। এ ভরা মৌসুমেও জেলা সদরসহ উপজেলা সদরগুলোতে সাধারণ তরকারীর দাম প্রতিকেজি গড়ে ২০/২৫ টাকা হারে। তামাক চাষীরা বলেছেন, চলতি মৌসুমে চাষীদের মাঝে তামাক কোম্পানীগুলোর পক্ষে ব্যাপক অর্থসহায়তা প্রদান করায় অবাধে তামাক চাষ হয়েছে। উৎপাদনও বেড়েছে। বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত ৪ বছরে জেলায় তামাক চাষের ক্ষেত্র প্রায় ৪ গুন বৃদ্ধি পেয়েছে, একই কারণে কমেছে কৃষিপণ্যের আবাদ। তবু প্রশাসন কিংবা সংশ্লিষ্টদের কোন মাথা ব্যথা নেই তামক চাষ নিয়ন্ত্রণে। ভোক্তা ও কৃষষদের অভিযোগ, তামাকচাষ বিরোধী জোরালো কোন ভ’মিকাও পালন করছেন না সরকারি কর্মকর্তারা। জেলার থানছি উপজেলা সদর থেকে দুর্গম বড়মদক পর্যন্ত প্রায় ৪৮ কিলোমিটার নদী পথ। এর মধ্যে প্রায় ২৫ কিলোমিটারজুড়েই নদীর চরে তামাক চাষ হয়েছে। একইভাবে থানছি থেকে জেলা সদরের কাছে চাইংগা,তারাছা, বেতছড়া এবং জেলা শহরের ভাটিতে ভরাচর, লাংগিরচর থেকে চেমিমুখ পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার নদীর তীরে তামাক চাষ করা হয়। এসব নদীর চরের মোট জমির প্রায় ৮০ ভাগেই তামাকচাষ এবং বাকি ২০ ভাগ জমিতে কৃষিপণ্য আবাদ হয়েছে চলতি মৌসুমে। একইভাবে রোয়াংছড়ি উপজেলা সদরের সমতল এলাকাসমুহেও তামাকচাষ হয়েছে। বেতছড়া ও তারাছামুখ এলাকায় তামাক চাষ হয়েছে কৃষি চাষের বদলে।

এদিকে জেলার থানছি উপজেলার বলিপাড়ায় প্রায় ৯০ ভাগ জমিতে এবারও তামাক চাষ হয়েছে। বলি বাজার এলাকার একশ্রেণীর মহাজন তামাকচাষীদের চড়াসুদে দাদন দিয়েছে।

বেশকটি এলাকা পরিদর্শন এবং কৃষকদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, অবাধে তামাক চাষের ফলে এলাকা ভিত্তিক কৃষি জমি কমছে, বাড়ছে তামকা পাতা চাষের জমি। ফলে পুরো এলাকায় তরকারীর ও সাকসবজির আবাদ কমেছে। এতে হাটবাজারগুলোতে তরকারী ও সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় এলাকাবাসীকে তিনগুন দামে সাকসবজি কিনে খেতে হচ্ছে। পুষ্টিবান সবজিরও কৃত্রিম সংকট বিরাজ করছে।

জেলা সদরের কৃষিবিদ আলতাফ হোসেন জানান, জেলার পাহাড়ি মাটি খুবই উর্বর এবং কৃষিপণ্য উৎপাদনে উপযোগী। সর্বনাশী তামাকের বিকল্প হিসেবে পাহাড়ি তুলা, আখ, আদা-হলুদ, মসলাজাতীয় কৃষিপন্য আবাদ করা অতিব প্রয়োজন। এতে পরিবেশ অনুকুলে থাকবে, মানুষের পুষ্টির যোগানও বজায় রাখা সম্ভব হবে। জেলা মৃত্তিকা বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, অবাধে তামাকচাষের ফলে পাহাড়ের মাটি ক্রমশ উর্বরা শক্তি হারাচ্ছে। কৃষকদের এখনই সময় সেই সর্বনাশী তামাক চাষ থেকে ফিরে আসা। জেলা সদরের পরিবেশ সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম বাচ্চু জানিয়েছেন, তামাক চাষের ফলে জমিতে কেঁচোসহ পরিবেশ রক্ষাকারী পোকা-মাকড়ও ধংস হয়ে যাচ্ছে। সরকারের কৃষি বিভাগসহ উন্নয়ন সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তামাকের বিকল্প চাষে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

জেলায় তামাকচাষে নিয়োজিত তামাক কোম্পানীগুলোর স্থানীয় কর্মকর্তারা বলেন, এলাকার চাষীরা নগদ অর্থ পাওয়ায় তামাকচাষের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। কোন চাষীকে অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে তামাকচাষ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে না বলেও তারা দাবি করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.