প্রকাশক ও চেয়ারম্যান- মোঃ রেজাউল করিম, মোবা- ০১৫৫৮-৪৩৪২২৮,০১৮৩৫-৪১০১২৫, বার্তা সম্পাদক- সেলিম উদ্দিন, মোবা- ০১৮১৮-১২৫৪০০, পৃষ্ঠপোষক-সোহেল জাহান চৌধুরী emil: endcox@gmail.com

এম.জুবাইদ,কক্সবাজার #

চকরিয়া বরইতলী পেকুয়া মগনামা সড়কের ডাকাতি যেন নিত্যনৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে উঠেছে। প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে ডাকাতির ঘটনা। কোন মতেই যাতে দমানো যাচ্ছেনা ডাকাত সিন্ডিকেটকে। অনেকেই ওই সড়কের ডাকাতদলের হাতে জিম্মী হয়ে আছে পেকুয়া, কুতুবদিয়ার লক্ষ লক্ষ মানুষ। এদিকে বারবার ডাকাতির ঘটনার পর ও পুলিশের কার্যকারী কোন পদক্ষেপ চোখে না পড়ায় সাধারণ যাত্রীদের মাঝে আতংক বিরাজ করছে। তার উপর স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেন টইল পুলিশের সাথে ডাকাতদল গোপন কানেকশান করেই এ ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি ওই সড়কের ডাকাত সিন্ডিকেটের বেশ কয়েকজন ডাকাত অস্ত্র ও গুলি সহ আটক হলেও বর্তমানে থেমে থেমে ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। জানা যায় ২০১০ সালে ১১ মে রাত ৮ টার দিকে ওই সড়কের মচইন্যাকাটা পয়েন্টে একটি শাহ আমিন সার্ভিসে এ ডাকাতির ঘটনায় যাত্রীরা সর্বস্ব খুইয়েছে। এ সময় ডাকাত দলের বন্দুক,ছুরি, ওহাতুড়ির আঘাতে গাড়ীর ড্্রাইভার সহ ৭ জন যাত্রী আহত হয়েছে। আহত যাত্রীদের কে পেকুয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে শাহ আমিন সার্ভিসের একটি বাস (যার নং চট্টমেট্ট্রো জ ১১০৮৪৪) ১৭ জন যাত্রী নিয়ে পেকুয়ার উদ্দেশ্য রওয়ানা হয়। কিন্তু ওই বাসেই যাত্রী সেজে ১০/১২ জন ডাকাত টামিনাল কাউন্টার ও নতুনব্রীজ কাউন্টার থেকৈ গাড়ীতে উঠে। গাড়ী রাত ৮ টার দিকে হারবাং মগনামা সড়কের মচইন্যাকাটা পয়েন্টে পৌছার সাথে সাথেই দুইজন ডাকাত ড্্রাইভারের দিকে অস্ত্র তাক করে গাড়ী থামাতে বলে। ড্্ারইভার গাড়ী থামালে ডাকাত দলের একজন সদস্য নিজেই ড্্ারইভারের সিটে বসে আস্তেআস্তে গাড়ী চালাতে থাকে। এদিকে বাকী ১০/১১ জন ডাকাত চলন্ত অবস্থায় অন্যান্য যাত্রীদের সর্বস্ব কেড়ে নিয়। এই সময় যাত্রীরা তাদের জিনিসপত্র দিতে অস্বীকার করলে তাদের কে ছুরির দিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এই ডাকাতের ছুরিকাঘাতে ১৫ জন যাত্রী রক্তক্তা হয়েছিল। এদিকে নতুন সড়কটি চালু হবার পর থেকে একই স্থানে কমপক্ষে ৩০/৩৫ বার ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও পুলিশ টহল জোরদার করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠছে। রাতের আধারে নামতেই পেকুয়া ও কুতুবদিয়া উপজেলার হাজার হাজার যাত্রী জীবনের ঝুকি নিয়ে এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করেন। এদিকে উক্ত ডাকাতির  ঘটনার এক ঘন্টার মধ্যে অভিযান চালিয়ে হারবাং মগনামা ডাকাত সিন্ডিকেটের কে সদস্যকে অস্ত্র সহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে আবারোও  গণ ডাকাতি কালে ডাকাতের ছুরিকাঘাতে পেকুয়া বাজারের এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। এ সময় আরো ১০ যাত্রী ছুরিকাহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। জানা যায়, গত ২৪ মে রাত ১০ টায় বরইতলী মগনামা সড়কের মচইন্যাকাটা এলাকায় এ গণ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাত কবলিত গাড়ির যাত্রী ও আহতদের সাথে কথা বলে জানা যায় চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট থেকে যাত্রীবেশে ৫ ডাকাত পেকুয়াগামী একটি এস আলম (চট্টমেট্টো জ- ১১- ০৮৬৭) গাড়িতে উঠে। গাড়িটি বরইতলী মগনামা সড়কের বুড়ির দোকান পর্যন্ত এসে ডাকাতরা ড্্রাইভার কে ধরে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গাড়ী থামাতে বলে এতে ড্্রাইভার গাড়ী না থামালে তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে ডাকাতদের একজন গাড়ী চালায় এবং পথিমধ্যে আরো ৩ জন মুখোশপরা অস্ত্রধারী ডাকাতকে গাড়িতে তুলে লুটপাত করতে থাকে। এ সময় পেকুয়া বাজারের সবুজ স্টুড়িওর মালিক সবুজ প্রতিবাদ করতে চাইলে তার বুকে একটি ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে ডাকাতরা এতেই সে মারা যায়। নিহত ব্যবসায়ী সবুজ দাশ (২৫) লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের হাজী রাস্তার মাথা এলাকার অরুণ দাশের ছেলে। এ সময় আরো ১০ যাত্রী গুরুতর আহত হয়। আহতরা হলেন গাড়ির হেল্পার মুজিব(৫৫) ও চালক মামুন(৩৮),নয়ন (৩০), ডা: প্রদীপ (৪২), সহ আরো ৪ ব্যাক্তি। আহদের কয়েকজন কে পেকুয়া সদর হাসপাতাল ও চকরিয়া জম জম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। থানা সূত্রে জানা যায় ডাকাতদল এ সময় আরো তিনটি সি এন জি ২ টি মটর সাইকেল ডাকাতি করে। উল্লেখ ওই স্থানে প্রায়ই সময়ে ডাকাতি ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। ওই স্থানটি নির্জন ও পাহাড়ী এলাকা হওয়ায় ডাকাতরা এ স্থানটি বেছে নেয় এবং চকরিয়া পেকুয়া সীমান্ত এলাকা হওয়ায় দুই থানার রশি টানাটানিতে পুলিশ টহল ও কম বলে জানা গেছে। এদিকে উক্ত ঘটনায় চকরিয়া থানায় অঘাতনামা ১০/১৫ জনকে আসামী করে পেকুয়া মগনামা বরইতলী সড়কের ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার প্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে দুই ডাকাত কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা জানান ১০/১২ জনের একটি সিন্ডিকেট ওই সড়কের মইচন্যাকাটা পয়েন্টে একটি ব্রীজে রশি টেনে মোটক সাইকেল, সি এন জি সহ বাস গুলো ডাকাতি করে থাকে। ৩/৪ দিন পর পর প্রায় সময় তারা এ ধরণের ডাকাতি করে থাকে বলে জানায়। এদিকে পেকুয়া মগনামা বরইতলী সড়কের ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী জানান প্রশাসন ডাকাতি বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ যাত্রীদের আবারো দুর্ভোগের শিকার হতে হবে। তিনি হাজার হাজার যাত্রীর নিরাপত্তা দেয়ার জন্য স্থানীয়   প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানান। এই ব্যাপারে চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ ফরহাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এস আলম ডাকাতি হাওয়ার ঘটনায় ২ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করছে বলে জানান। তিনি আরো জানান গ্রেপ্তারকৃত ডাকাতদের জিজ্ঞাসাবাদে বিস্তারিত তথ্য উঠে আসবে বলে। এ ব্যাপারে পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

ナース求人