হামিদুল হক ঈদগড়ঃ
রামু উপজেলার ঈদগড়ে হিরুইন ও ইয়াবা ব্যবসা জমজমাট আকার ধারণ করেছে। জানা যায়, জেলার ক্রাইন জোন হিসেবেখ্যাত রামুর ঈদগড়ে দীর্ঘ বৎসর আগে থেকে চিহ্নিত কয়েকটি বসত বাড়ীতে দেশীয় তৈরী মদ ও গাজার ব্যবসা চলে আসলেও বর্তমানে ঐ মাদক ব্যবসায় যোগ হয়েছে দেশের আলোচিত যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট ইয়াবা ও মরণ নেশা হিরুইন। প্রতিদিন সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত চিহ্নিত পয়েন্ট বাজারের পূর্বে পার্শ্বে কাপড়ের দোকান,বাজারের কবর স্থানের পাশে পুকুর পাড়ে তৈরী একটি বাসা, চরপাড়া যাওয়ার ব্রিজের উপর ও পূর্ব রাজঘাট চিকন রাস্তায় প্রকাশ্যে মদ ও গাজার ব্যবসার সাথে পাল্লা দিয়ে বিক্রি হচ্ছে ইয়াবা ট্যাবলেট ও হিরুইন। এলাকার কিছু প্রভাবশালীর ছেলেরা এই হিরুইন ও ইয়াবা ব্যবসার দায়িত্ব পরিচালনা করে থাকে। এদের মধ্যে একজন সাবেক মেম্বারের ভাতিজা ও কাপড় ব্যবসায়ীর ছেলে এবং অপর জন চট্টগ্রাম আনোয়ারা থানার বাসিন্দা বর্তমান ঈদগড়ে বসবাসকারী মাছ ব্যবসায়ীর ছেলে চিহ্নিত রয়েছে। এরা দুজনের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন থেকে ইয়াবা ও হিরুইন ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে একটি মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। স্থানীয় কয়েকজন হিরুইন সেবনকারী জানান, উক্ত মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের প্রভাবশালী সদস্যরা বিভিন্ন সময় মোবাইলের ব্যাটারী খোলে ঐ জায়গায়, মোবাইল চার্জারের ভিতর,লজ্জা স্থানে বেঁেধ, স্থানীয় ফার্মেসী ব্যবসায়ীদের সাথে আতাত করে ঔষদের কাটনের ভিতর কৌশলে ইয়াবা ও হিরুইনের পেকেট ঢুকিয়ে কক্সবাজার সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ঈদগড়ে নিয়ে আসে। মাদক সিন্ডিকেটের সদস্যরা হোন্ডার বিভিন্ন যন্ত্রাংসের ভিতর করেও উল্লেখিত মাদক দ্রব্য এলাকায় নিয়ে আসে বলেও সেবনকারীরা জানান। ইয়াবা প্রতি ট্যাবলেটের মূল্য কক্সবাজার টেকনাফের তুলনায় একটু বেশী হলেও এলাকায় এগুলোর চাহিদা রয়েছে। ব্যবসায়ীরা এলাকার বহিরাগত রাবার ব্যবসায়ী, স্থানীয় দোকানদার, স্থানীয় প্রভাবশালীদের যুবক বয়সের ছেলেরা, রাবার প্লটের বিভিন্ন পদের চাকরীজিবীদের টার্গেট করে এই ইয়াবা বিক্রি করে। হিরুইন প্রতি পুটলা(সামান্য একবার খেতে পারে) ১৪০ টাকা করে বিক্রি হলেও এর চাহিদা রয়েছে যতেষ্ঠ। তা ইয়াবা ও হিরুইনের বিনা বাধায় প্রকাশ্যে ব্যবসা করে প্রভাবশালী মাদক সিন্ডিকেটের সদস্যরা কম সময়ের ভিতর লাখ লাখ টাকার মালিক বনে যাচ্ছে। ঈদগড়ের মাদক দ্রব্য বিক্রির বিষয়ে ইতিপূর্বে স্থানীয় আজকের দেশবিদেশ পত্রিকায় তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের পর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে রামু থানার এ এস আই কাশেম মাদক বিরুধী অভিযান চালিয়ে স্থানীয় মাদক স¤্রাট, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন মামলার আসামী পূর্ব রাজঘাট এলাকার আবু তাহেরের বাড়ী থেকে বিপুল পরিমাণ গাজা উদ্ধার করেন। উক্ত অভিযানের পর কিছুদিন মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশ আতঙ্কে মাদক বিক্রি বন্ধ রাখলেও বর্তমানে আগের চেয়ে দ্বিগুণ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এলাকাবাসী ঈদগড় থেকে চিরতরে মাদক ব্যবসা বন্ধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উর্ধ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
: ইউনিয়ন সংবাদ, ঈদগড়



