প্রকাশক ও চেয়ারম্যান- মোঃ রেজাউল করিম, মোবা- ০১৫৫৮-৪৩৪২২৮,০১৮৩৫-৪১০১২৫, বার্তা সম্পাদক- সেলিম উদ্দিন, মোবা- ০১৮১৮-১২৫৪০০, পৃষ্ঠপোষক-সোহেল জাহান চৌধুরী emil: endcox@gmail.com

আতিকুর রহমান মানিক, জালালাবাদ
কক্সবাজার সদরের প্রখ্যাত লবণ শিল্প এলাকা ইসলামপুর শিল্প এলাকার প্রাণ বলে খ্যাত ইসলামপুর খালে যত্রতত্র অবৈধ ভাবে বৃহদাকার জাল পেতে মাছ শিকারের কারণে উক্ত খালে লবণবাহী কর্গো বোট চলাচলে ব্যাপক প্রতিবন্ধকতা ও ঝুঁকির সৃষ্টি হচ্ছে। এর পাশাপাশি রেনু পোনা সহ মূল্যবান মৎস্য সম্পদ প্রতিনিয়ত বিনষ্ট হচ্ছে। লবণ উৎপাদনের ভর মৌসুমে দেশের একমাত্র লবণ শিল্প এলাকা ইসলামপুরে অর্ধ শতাধিক পূর্ণ উৎপাদনশীল লবণ কারখানার কাঁচামাল হিসাবে মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়া, চকরিয়া উপজেলা সহ সদরের খুরুস্কুল, ভারুয়াখালী, চৌফলদন্ডী, গোমাতলী, ও অপরাপর লবণ উৎপাদন এলাকা থেকে সরবরাহকারী ব্যবসায়ীরা অপরিশোধিত লবণ কার্গো বোট বোঝাই করে ইসলামপুর শিল্প এলাকার লবণ মিল সমূহে সরবরাহ করার জন্য নিয়ে আসেন। প্রতিদিন লবণবাহী শতাধিক কার্গো ট্রলার ইসলামপুর খাল দিয়ে যাতায়ত করে থাকে। লবণ বোঝাই এসব কার্গো বোট চলাচলের জন্য কমপে ৭/৮ ফুট গভীরতার প্রয়োজন হয়। তাই সাধারণত পূর্ণ জোয়ারের সময় এসব কার্গো ট্রলার চলাচল করে থাকে। খালের যত্রতত্র মূল খাঁড়ি দখল করে প্রায় সময় বৃহদাকার জাল পেতে রাখে কতিপয় জেলে। এসব জালের দৈর্ঘ্য আড়াআড়ি ভাবে খালের এপার ওপার দখল করে থাকে। সরেজমিন দেখা গেছে মহেশখালী চ্যানেলস্থ ইসলামপুর খালের মোহনা থেকে ইসলামপুর শিল্প এলাকা পর্যন্ত আনুমানিক ৩/৪ কিলোমিটার খালে কম পে ২০/২২ পয়েন্টে অনুরূপ জাল পেতে রাখা হয়। ফলে উক্ত খালে যাতায়াতকারী কার্গো বোট চলাচলে ব্যাপক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক সময় লবণবাহী বোট চলাচলের সময় ইঞ্জিনের প্রপেলার জালে জড়িয়ে গেলে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মারাত্মক দূর্ঘটনায় পতিত হয়ে লবণশুদ্ধ বোঝাই ট্রলার ডুবে যাচ্ছে। এতে প্রভুত তির শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ী, ট্রলার মালিক ও ট্রলার শ্রমিকবৃন্দ।  ইতোমধ্যে এ রকম অনেক দূর্ঘটনায় তিগ্রস্ত হয়ে মৎস্যজীবি জেলে ও ট্রলার মালিকদের মধ্যে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় ভাবে একাধিক বিচার, বৈঠক ও চাপ প্রয়োগ করা স্বত্ত্বেও এসব জেলেরা ইসলামপুর খালে জাল পাতা থেকে বিরত হয় নি। ফলে লবণ বোঝাই কর্গো ট্রলার সমূহ প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। লবণবাহী ট্রলার এমভি জান্নাত এর সারেং আবদুল জলিল জানান, চলতি মৌসুমে উক্ত খালে বহুবার শুধু মাত্র জালের কারণে ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ট্রলার মালিক জানান, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তির প্রত্য মদদে এসব জেলেরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। ত্রে বিশেষে তার প্রতিপালিত সন্ত্রাসী গ্র“পকে নিয়মিত বখরা দিয়ে খালে জাল পেতে রাখে জেলেরা। এতে লবণ পরিবহণে ব্যাপক অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিদিন ধ্বংস হচ্ছে দেশের মূল্যবান মৎস্য সম্পদ। রেনু পোনা থেকে বড় মাছ পর্যন্ত কোন মাছ এসব জালের কবল থেকে রা পাচ্ছে না। এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (সদর) ড. মঈন উদ্দিন আহমদ বলেন, এভাবে জাল পেতে মাছ শিকার করা সম্পূর্ণ অবৈধ ও বে-আইনী। শীঘ্রই জেলা প্রশাসনের সহায়তায় ম্যাজিষ্ট্রেট ও পুলিশ নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে তিনি আশ্বস্ত করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

cheap viagra